দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিট ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেন তিনি।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠিত ফোনালাপে ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উশাকভ বলেন, ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে এবং সংকট নিরসনে সমাধান খুঁজে বের করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ফোনালাপটি ছিল ‘ব্যবসায়িক ও গঠনমূলক’। একই সঙ্গে রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সেটি মস্কোর মৌলিক অবস্থান বিবেচনায় রেখেই হতে হবে বলে পুতিন উল্লেখ করেছেন।
ক্রেমলিন ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর অভিযোগও তোলে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের রাশিয়ার অভ্যন্তরে, বিশেষ করে তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো দূরপাল্লার হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। এসব হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ফোনালাপে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং একের পর এক জনপদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।
গত শুক্রবার রুশ সেনা কর্মকর্তারা পুতিনকে জানান, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলে নিয়েছে রাশিয়া। তবে শনিবার জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, শহরটি এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাশিয়া বরাবরের মতোই দোনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধের সমাধানের কথা বলছে। ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও ক্রেমলিন তা নাকচ করে।
উশাকভ আরও জানান, ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আবারও মস্কো সফর করবেন। তবে ইরান-সংক্রান্ত সংকটে ওয়াশিংটনের মনোযোগ থাকায় কূটনৈতিক উদ্যোগ কিছুটা স্থবির হয়ে আছে।
ফোনালাপে পুতিন আশা প্রকাশ করেন, ইরান সংকটেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করবে।
এ সময় পুতিন ট্রাম্পকে মস্কো সফরের জন্য আগের আমন্ত্রণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
অন্যদিকে জেলেনস্কি নিজের টেলিগ্রাম বার্তায় ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/